গঙ্গাসাগর

দিগন্তহীন সাগরের মাঝে অন্তহীন কাহিনী

"সব তীর্থ বার বার, গঙ্গাসাগর একবার"

যদি আপনি এই উক্তিটি শুনে থাকেন অথবা এটির গভীরতাকে অনুভব করে থাকেন তবে, ইতিমধ্যে আপনি গঙ্গাসাগরের মাধুর্যতা অনুভব করেছেন। আপনি হয়তো নিজের মনস্কামনা পূরণ করতে অনেক তীর্থস্থানে ভ্রমন করেছেন, কিন্তু গঙ্গাসাগরে একবারেই পাওয়া যায় পুণ্যতা। গঙ্গাসাগর ২০২১ এখন প্রায় আমাদের দরজায়। কিন্তু এই বছর মহামারীর কারনে বদলেছে অনেক ব্যবস্থা।

পুণ্যতার ভূমিতে আপনাকে স্বাগতম, যেখানে পবিত্র গঙ্গা নদী দিগন্তহীন সাগরে গিয়ে মিশেছে। সুবিশাল সাগর, দিগন্তহীন নীল আকাশ ও সুবিস্তৃত সমুদ্র সৈকতের মিলনে শান্তি প্রাপ্তি হয় এই পুণ্যভূমিতে। মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় অন্তর্গত গঙ্গানদী ও বঙ্গোপসাগরের সংগমস্থলে অবস্থিত ব-দ্বীপ, সাগরদ্বীপ।

গঙ্গাসাগর আমাদের বাস্তবিক অনুভূতি। সংসার ধর্ম থেকে বেরিয়ে নির্বাণ লাভের যাত্রাপথই হলো গঙ্গাসাগর, বহু শতাব্দী ধরে এই অনুভূতিটি নানান বিশেষজ্ঞ, লেখকদের বারবার মুগ্ধ করেছে। মনুষত্ব থেকে আধ্যাত্মিক জীবনের সূচনার অধ্যায়, গঙ্গাসাগর।

বহু ভক্ত ও তীর্থযাত্রীদের মোক্ষলাভের প্রবেশপথ গঙ্গাসাগর। প্রতিবছর মকর সংক্রান্তির দিন দেশ বিদেশ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ তীর্থযাত্রীরা ছুটে আসে এই পবিত্র ভূমিতে। বিশাল সংখ্যক ভক্তরা মনে করেন যে, সঠিক সময়ে একবার মহান গঙ্গায় স্নান করলে পাওয়া যায় মোক্ষলাভ। সাধারণ তীর্থযাত্রী ছাড়াও মেলার অন্যতম আকর্ষণ হলো নাগা সন্ন্যাসীরা। তাদের আধ্যাত্মিকতায় বেড়ে ওঠে মেলার সভা।

বহু শতাব্দী ধরে সমগ্র দেশ জুড়ে বিশ্বাস করা হয় যে,

গঙ্গাসাগর এমন এক মহান তীর্থযাত্রা, যার দ্বারা মানব জীবণে পাওয়া যায় অপার শান্তি।

E-snan
E-snan