পুরাণ মতে, বহু শতাব্দীর নানান গল্পপ্রবাহের মাধ্যমে স্বর্গ থেকে মর্তে আবর্তন হন দেবী গঙ্গা। এরপর বহু পথ পেরিয়ে নানা শাখা-প্রশাখা নিয়ে দেবী গঙ্গা সাগরদ্বীপের কাছে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলিত হন। এই সংগমস্থলে মোক্ষ প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে মিলিত হয় বহু তীর্থযাত্রী।

সাগরের কেন্দ্রস্থল, সাগরদ্বীপে অবস্থিত কপিল মুনির আশ্রম। পুরাণ মতে, করদম মুনি ও দেবাহুতি দেবীর পুত্র কপিল মুনি ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর অবতার। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ভগবান বিষ্ণুকে পুত্র হিসেবে পাওয়ার আশাঙ্খায় করদম মুনি সারা জীবন বিষ্ণুর নির্দেশ নিষ্ঠার সাথে মেনে চলেন। যার ফলস্বরূপ, করদম মুনি ও দেবাহুতি দেবীর পুত্র হিসেবে মর্তে আগমন হন ভগবান বিষ্ণুর।

গঙ্গাসাগরের পুরাণ গল্পের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ও সাগরদ্বীপে নামকরণের অন্যতম অনুপ্রেরণা 'সাগর রাজা'। গল্পানুসারে, স্বর্গে ও মর্তে সর্ব শক্তিশালী রাজা হওয়ার বাসনায় ১০০তম অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেন অযোধ্যা্র রাজা 'সাগর'।

কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের পদ হারানোর ভয়ে সাগর রাজার এই আঙ্খাক্ষায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় ১০০তম অশ্বমেধ যজ্ঞের অধিকারী 'দেবরাজ ইন্দ্র'। রাজাকে পরাস্ত করার উদ্দেশ্যে দেবরাজ ইন্দ্র, ঘোড়াটিকে সাগরদ্বীপের কপিল মুনির আশ্রমে(পাতাল) লুকিয়ে রাখেন। ক্ষুব্ধ রাজার কড়া আদেশে তার ৬০,০০০ পুত্র বেরিয়ে পরে যজ্ঞের ঘোড়ার সন্ধানে। রাজার পুত্ররা ঘোড়ার সন্ধানে তচনছ করে থাকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। অবশেষে তারা সাগরদ্বীপের কপিল মুনির আশ্রম থেকে ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে। রাজার পুত্ররা মুনির ধ্যান ভন্ড করে ও চোর সন্দেহে নানাভাবে তিরস্কার করতে থাকে।

ফলস্বরূপ, রুষ্ট মুনির অভিশাপে ৬০,০০০ সাগরসন্তানরা আগুনে ভষ্মীভূতে হয়ে যায়। বহু বছর পর, সাগর রাজার পরবর্তী বংশধর ভগীরথ পূর্বপুরুষদের পুনারুদ্ধারের জন্যে কপিল মুনির নির্দেশে গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্তে অবতীর্ণ করেন। ভগীরথের তপসায় তুষ্ট হয়ে মহাদেবের জটা থেকে বেরিয়ে দেবী গঙ্গা হিমালয় থেকে নেমে আসেন। পবিত্র গঙ্গা জলের স্পর্শে রাজার ৬০,০০০ পুত্র অভিশাপ মুক্ত হয়। মনে করা হয় "মকরসংক্রান্তি"-র দিন এই আত্মারা মোক্ষলাভ করেছিল।

গঙ্গাসাগরের এই পৌরানিক গল্পকে বিশ্বাস করে, আজও মকর সংক্রান্তির প্রবল ঠান্ডায় ভারততথা সমগ্র বিশ্ব থেকে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীরা ছুটে আসেন মোক্ষলাভের আশায়। মনে করা হয়, এই সময় সাগরে একটি বার স্নান করলে জীবনের দুঃখ, কষ্ঠ ও পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রতিবছর এইসময় হাজার হাজার তীর্থযাত্রী পূর্বপুরুষদের স্মরণে 'তর্পণ' করেন ও কপিল মুনির আশ্রমে পূজা দিয়ে থাকেন।

E-snan
E-snan