সমুদ্রসৈকতঃ

সাগরদ্বীপের একেবারে শেষপ্রান্তে আছে অপরূপ সমুদ্রসৈকত। এই দ্বীপের কাছেই বঙ্গোপসাগরে গঙ্গা নদী তার যাত্রা শেষ করেছে। তাই এই সমুদ্র সৈকত গঙ্গাসাগর নামে পরিচিত।মকর সংক্রান্তির দিন হাজার হাজার পুন্যার্থী ও সন্ন্যাসীদের মিলনভূমি হয়ে ওঠে গঙ্গাসাগর ।সমুদ্র সৈকতে একশান্ত ও শীতল পরিবেশে অপরূপ সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়।

তীর্থস্থান ও মেলাঃ

বাংলার অন্যতম অপরূপ সাগরদ্বীপ,এই দ্বীপটি বিখ্যাত, ধর্মীয়সাগরমেলার জন্য।প্রায় ৫১টি দ্বীপ নিয়েতৈরীসাগরদ্বীপ। যানজট, শহুরে ব্যস্ততা থেকে কিছুটাদূরেবিশ্রামের জন্য উপযুক্তএইসমুদ্র উপকূল। সমগ্র দ্বীপ জুড়ে আছে ভ্রমণেরসুব্যবস্থা সাগরদ্বীপেরপ্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যতা অনেক সময়ই মনকেড়েছে পর্যটকদের।.

সোনালী সৈকতে ঘেরা সাগরদ্বীপটিতে প্রতিবছর জানুয়ারী মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভক্তদেরএক বিশাল সমাবেশ দেখা যায়।

কপিল মুনি মন্দিরঃ

কপিল মুনির মন্দির সাগরদ্বীপের এক অন্যতম আকর্ষণ ।গঙ্গায় ডুব দেওয়ার পর তীর্থ যাত্রীরা যান কপিল মুনির আশ্রমে। ১৯৬০ সালে কপিল মুনির আশ্রমসহ তীরবর্তী আরো চারটি মন্দির বন্যায় নষ্ট হয়ে যায়।পরবর্তী কালে কপিল মুনির আশ্রম পুনঃনির্মাণ করা হয়। অনেকেই বিশ্বাসকরে যে, মোক্ষ লাভের পর কপিল মুনি ফিরে আসেন ও সে তার ঐশ্বরিক জ্ঞান তার মাকে প্রদান করে, যাতে তার মা মোক্ষ লাভ করতে পারে।

সাগরদ্বীপ লাইটহাউজঃ

সাগরদ্বীপের উপকূল অঞ্চলে একটি লাইট হাউস আছে।এই লাইট হাউসের জন্যে রাতে দ্বীপের চারপাশে এক অপরূপদৃশ্য ফুটে ওঠে। পর্যটকেরাও এই লাইটহাউসে প্রবেশ করতে পারে।

আলোকচিত্রকরদের জন্যে লাইট হাউসটি একদম উপযুক্ত স্থান, সাগরদ্বীপের অপরূপ সৌন্দর্য্যকে ক্যামেরাবন্দী করার জন্য।

ভারত সেবা আশ্রমঃ

গঙ্গাসাগরে যাবার পথে ভারত সেবা একটি ছোটো আশ্রম। এই আশ্রমটি গঙ্গাসাগরের ট্রাস্টের মাধ্যমে চলে। এই আশ্রমে একটি ছোটো মন্দির আছে । এমনকি অতিথিদের থাকার ব্যবস্থাও আছে এই আশ্রমে ।

ওঙ্কারনাথ মন্দির

গঙ্গাসাগরের আর একটি পবিত্র মন্দির ওঙ্কারনাথ মন্দির । মন্দিরটি ভগবান ওঙ্কারনাথ ও তার শিক্ষা দ্বারা নিবেদিত। গাছ ও জলাভূমির মাঝে অবস্থিত ওঙ্কারনাথ মন্দিরটি খুবইশান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবস্থিত।

বকখালি

বকখালি অঞ্চলটি সুন্দরবনের নামখানা ব্লকের ৮ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত। বঙ্গোপসাগরের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত বকখালি পর্যটকদের কাছে এক মনোরম স্থান। এখানে বিশলক্ষ্মী মন্দির, ম্যানগ্রোভ অরণ্য, বন দপ্তর অফিস আছে। পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্যে বকখালির বিভিন্ন পার্কে কুমির, হরিণ, বানর ও হরেক রঙের পাখি সংরক্ষণ করা আছে।

সজনেখালি

সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের প্রায় ৬,১১০ একর জঙ্গল এলাকায় গড়ে উঠেছে সজনেখালি অভয়ারণ্য। এখানে বনদপ্তরের হেড অফিস আছে। সুন্দরবনে বেড়াতে আসা প্রত্যেকটি পর্যটকদের এই হেড অফিস থেকেই অনুমতি নিতে হয়। সজনেখালি বন্যপ্রানী অভয়ারণ্যে আছে ম্যানগ্রোভ ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার, বনবিবি মন্দির, ওয়াজটাওয়ার ও সেই সংলগ্ন পর্যটকদের থাকার জন্য সরকারি লজ। এছাড়াও অভয়ারণ্যে বিভিন্ন জলাশয়ে কুমির, কচ্ছপ, রঙবেরঙের পাখি,বুনো শুয়োর, হায়না, শিয়াল, শজারু, অনেক বাঁদর এবং ২০০৪ সালে সরকারি গণনানুযায়ী ২৭টি বাঘ সংরক্ষণ করা আছে।

E-snan
E-snan