শুধু ভারতবর্ষ নয়, ভারততথা প্রতিবেশী দেশ যেমন- নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২০ লক্ষেরও বেশী মানুষ মন্ত্র পাঠ করতে করতে মহান গঙ্গা নদী ও বঙ্গোপসাগরের সংগমস্থানে অন্তত একবার আসেন পুণ্যিলাভের আশায়।
২০১৮ সালে গঙ্গাসাগর মেলায় সমবেত হোন প্রায় ১৫ লক্ষ তীর্থযাত্রী।
২০১৯ সালে তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা বেড়ে হয় ২০ লক্ষ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে ২০১৯ সালে কলকাতার বাবুঘাট থেকে সাগরদ্বীপ পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার যাত্রাপথে প্রায় ৫০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, প্রায় ৩,০০০ পুলিশকর্মী ও অধিক সুরক্ষার জন্যে ৭টি ড্রোন ক্যামেরার ব্যবস্থা করেন।

২০২০ সালে গঙ্গাসাগর মেলা প্রায় ৫০লক্ষ ভক্তদের সাক্ষী হয়। ভক্তরা যাতে গঙ্গাসাগরের পূজা ও স্নান ঘরে বসেই সরাসরি দেখতে পান তার জন্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফেসবুক, ট্যুইটার ও ইউটিউব-এ লাইভ ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি ই-স্নানের মাধ্যমে ভক্তরা ঘরে বসে পবিত্র গঙ্গাজলও পেয়ে যেতে পারেন।

মেলাপ্রাঙ্গনে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমের উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মেলায় অবস্থিত সকলকর্মীদের জন্যে করা হয় স্যাটেলাইট ফোনের ব্যবস্থা। এছাড়াও মেলায় অবস্থিত তীর্থযাত্রী ও যানবাহনগুলির বর্তমান পরিস্থিতি জানার জন্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে 'সাগর সংযোগ' প্রকল্প শুরু করা হয়। সাগরের যাত্রাপথে বিভিন্ন জায়গায় ৬০টি বড় এল.ই.ডি. স্ক্রীনের ব্যবস্থা করা হয়। এই এল.ই.ডি. স্ক্রীনে তীর্থযাত্রীদের সুবিধার জন্যে ট্রেন, বাস ও ফেরীর সময়সীমা দেখানো হয়। এই তথ্যগুলি বাংলা, হিন্দি ও ইংলিশ বিভিন্ন ভাষাও দেওয়া হয়।

আগামী বছরে কুম্ভমেলা না থাকায়, অনেক তীর্থযাত্রীরা গঙ্গাসাগর মেলায় উপস্থিত হবেন।

গঙ্গাসাগর ২০২১ তে সুরক্ষার জন্যে বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মেলায় আগত তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষার জন্যে বিভিন্ন স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড ও ফেরী ঘাটে থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিভিন্ন এন.জি.ও. গুলিও তৈরি হচ্ছে তাদের পরিষেবা প্রদানে । এবছর মেলায় থাকবে কোরেন্টাইন সেন্টার, সুরক্ষিত আশ্রয় ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা। এমনকি মেলা প্রাঙ্গনে দূরত্ব বিধি বজায় রাখার জন্যে যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে।

E-snan
E-snan